লিখেছেন রাজিব রায় । প্রকাশিত হয়েছে ১/০৮/২০১৩ইং সময়ঃ ১-১০ মিনিট।
অনেক দিন ধরে লিখব-লিখব বলে ভাবছিলাম কিন্তু সময়ের সল্পতার কারনে আর কিছুই লেখা হলো না । কিন্তু ইদানিং কালে কিছু বিষয় আমাকে লিখার জন্য ভাবিয়ে তুলেছে । বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালিন খন্ড খন্ড অভীজ্ঞতা গুলো মহীরুহ হয়ে আজ হয়তো একটা রচনা লেখার উপযোগিতা লাভ করেছে । তাই আজ আমার ফেসবুক বন্ধুদের ও আমার শুভাকাঙ্ক্ষী ভাইদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলতে চায় । আসলে কথা গুলো বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীক তাই আমি আগেই থেকেই বলে দিচ্ছি , আমার কথা গুলো স্রেফ অভীজ্ঞতা ছাড়া আর কিছুই নয় । আমার বন্ধুদের মুখে শোনা কিছু আজগুবি, গাজাখুরি গল্প আজ আপনাদেরকে শোনাব । জানিনা আপনাদের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে তবে কথা গুলো না বললেই নয় । পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক তীব্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা চান্স পায় এটা সবাই জানে । প্রত্যেকটা ডিপার্টমের্ন্টে অনেক কষ্ট করে চান্স পেতে হয় । আর কোন ডিপার্টমেন্টকে খাট করে দেখার কিছু নেই । তারপরও চান্স পাওয়ার পর কিছু ছাত্র ১ম বছর শুধু নিজেদের ঢোল পিটাতে ব্যতিব্যস্ত থাকে । উদাহরণস্বরুপ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মাইক্রোবায়োলজি অনুষদের নিউ ফ্রেশ স্টুডেন্টরা এমনকি সিনিয়র দাদারাও নিজেদের গীতটা একটু বেশিই গায় । আমি আমার আজকের লেখায় কিছু হুবহু ডাইয়ালগ তুলে ধরব যা আপনাদের মজা বই আর কিছুই দিবে না । আমি যখন এই ধরনের কথা গুলো প্রথম শুনি তখন আমার কাছে হাস্যকর মনে হয়েছিল । অনেক সময় শাটল ট্রেনে, কিংবা ঝুপড়িতে, কিংবা পরিচিত বন্ধুরা (তবে সবাই নয়) আমার সাথে প্রায় এ ধরনের অনেক কথাই বলে । যেমনঃ চ,বি আইন বিভাগের ২য় বর্ষের এক বন্ধু একদিন বলছে এইরকম , “ শুনেছিস ! আমাদের ক্লাশে আজ চমৎকার একটা ইনফরমেশন পেলাম । আমাদের এক স্যার অনেক পুরোনো জার্নাল ঘেটে বের করল অবিশাস্য এক তথ্য । চ,বি এর আইন বিভাগ নাকি এতই ডিমান্ড যে স্বয়ং “বারাক ওবামা” পড়ার জন্য এখানে এসেছিল । বলা হয়ে থাকে যে, চ,বি এর আইন নাকি পুরো ভারতীয় উপমহাদেশে শ্রেষ্ঠ । কিন্তু এখানে ভর্তি পরীক্ষায় ৫০ নম্বরের ইংরেজি থাকে । এইজন্য বারাক ওবামা ভর্তি পরীক্ষায় টিকে নাই ” । আসলে বড়ই হাস্যকর । এ ধরনের কথা প্রায় শোনা যায় । সে আরো বলল, “আমাদের স্যার’রা হচ্ছে ভার্সিটির সেরা গবেষক । তাদের মাথায় এত বুদ্ধি যে, এ,কে খান গ্রুপ থেকে কিভাবে ৭-১০ কোটি টাকা আদায় করে নিয়েছে নিজেদের ডিপার্ট্মেন্টের উন্নয়নের জন্য যা অন্য কোন ডিপার্ট্মেন্টের দ্বারা হয়তোবা সম্ভব ছিল না । আর আমাদের ভবন হবে বাংলাদেশের সেরা ডিজাইনের বিল্ডিং এবং পুরো ডিজিটাল ওয়াই-ফাই , বিদেশি সিস্টেম ”। আরেক দিন আরেক বড় ভাই বলছে এইভাবে , “ দেখ, আমদের জাকির স্যার , শাহ্ আলম স্যার, ফারুখ স্যার (অসম্মান করার সাহস আমার নেই) এরা হচ্ছে একেকটা মাথা । এইজন্য ল’ ফ্যাকাল্টিকে আলাদা জায়গায় , একটু উপরে পুরো কাম্পাস থেকে বলতে গেলে বাইরে আলাদা নির্জন স্থানে নিয়ে গেছেন । যেখানে রাজনীতির তেমন কোন ছোঁয়া নাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন মারামারি হলে তদন্তের ভার পরলে তাঁরা আগে দেখেন ল’র কোন স্টুডেন্ট আছে কিনা ” । OK মানছি, আবার বললেন, এখান থেকে পাস করলে সবার গতি প্রায় ভালই হয়। পুরা ভারতীয় উপমহাদেশের যে কোন খানে চাকরি হয় (!) আর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরীক্ষাতে তারাই সবথেকে বেশি সাফল্য রাখছে । তাছাড়া আরেক দিন শাটল ট্রেনে আসার সময় এক বড় ভাই আরেক ছোট ভাইকে বলছে, “তুমি কোন ডিপার্টমেন্টে ? ছেলেটি বলল, ইংরেজি বিভাগ । তারপরছেলেটি উনাকে বললেন, আপনি কোন ডিপার্টমেন্টে ? উত্তরে বড় ভাই বললেন, আমি ভার্সিটির সবথেকে দামি ও সেরা সাবজেক্ট “মাইক্রোবাইয়োলজি” তে পড়ি । ” আরেকদিন আরেক বড় ভাইয়ের সাথে দেখা তিনি বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে হলে যাচ্ছিলেন । তো ট্রেনে বসে আমি উনাকে প্রশ্ন করছিলাম যে, ভাইয়া আপনার বিসিএস পরীক্ষা কেমন হয়েছে ? উত্তরে তিনি বললেন , “খুব ভালো” । তারপর দুটা ম্যাথ প্রশ্ন বের করলেন এবং বললেন, “এই প্রশ্ন সমাধান করতে অনেকের দুই মিনিটের বেশি সময় লাগবে সেটা আমি মাত্র ২৫ সেকেন্ডে করে ফেললাম তাছাড়া পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্ররা ম্যাথ এ একটু ভালো হয় (যেহেতু উনি সেই ডিপার্টমেন্টের একজন ছাত্র)” । অতএব এভাবে প্রতিনিয়ত নিজেদের গাল বাজি সবাই করে যাচ্ছে । কিন্তু এভাবে আর কতদিন ! একাডেমিক রেজাল্ট যখন ভালো হবেনা , জীবনের ক্যারিয়ারে যখন কোথাও ভালো স্থান হবে না তখন গালবাজি কোথায় যাবে ? এভাবে চাপাবাজি করতে করতে আমার এক প্রিয় ল’র বন্ধু ফেল করে বসে আছে । সে এখন হতাশায় ভুগছে । প্রায় সময় আমার কাছে আসে মনের শান্তির জন্য । এখন তার চাঁপাবাজি পুরোপুরি বন্ধ । তার মন্তব্য এখন পুরোপুরি বিপরীত । সে বলে , “ আসলে প্রতিটি বিষয় ভালো ।আর ভালটা তখনই ভালো বলে গন্য হবে যখন, সে সেই বিভাগ থেকে ভালো রেজাল্ট তৈরি করতে পারবে এবং এভাবে জীবনে বহুদুর এগিয়ে যাওয়া যায় । আর ভাল সাবজেক্টে পড়েও যদি ভালো রেজাল্ট করা না যায় তাহলে কোন দামও নেই ” । সে একসময় স্বপ্ন দেখতো ব্যারিষ্টার /জুডিশিয়াল জাজ্ হওয়ার জন্য । কথায় কথায় সব সময় নিজেকে মাজিট্রেট হিসেবে কল্পনা করত ।এখন সে স্বপ্ন দেখছে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার জন্য । যদিও তার সাবজেক্টের মুখ্য উদ্দেশ্যের বিপরীত । ধীরে ধীরে তার স্বপ্ন গুলো উন্নততর থেকে নিচুতর হচ্ছে । সে যখন ল’তে প্রথম টিকে তখন তার বাসায় নেমপ্লেট লাগিয়েছে ঠিক এভাবে , “Mr. XYZ . LLB (hon`s) C.U” যদিও সে ল’ কমপ্লিট করে নি । স্রেফ লোক দেখানোর জন্য । কারন এটা ল’য়ারের ধর্ম । যে কোন সাধারন মানুষকে যদি জিজ্ঞেস করেন যে, ভাই উকিলদের ধর্ম কেমন? দেখবেন, আপনাকে স্বরচিত কন্ঠে কবিতার মতন কয়েক লাইন শুনিয়ে দেবে । তাই আমার বন্ধুদের ল’য়ার হতে নিরুৎসাহিত করি । যাই হোক আমার আমাদের ঢোল না পিটিয়ে প্রত্যেকটা সাবজেক্টকে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখব । এটাই যেন আমাদের নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিনত হয়। নিজেদের ভিতর অহংকারকে উস্কে না দিয়ে পাশের বন্ধুকে জড়িয়ে ধরে তাকে বলি , তুমিই সেরা সাবজেক্টে পড়, তোমাকে ভালো রেজাল্ট করতেই হবে । আমার এই লেখাটা কেমন হল মন্তব্য করতে ভুলবেন না কিন্তু । আর লেখাটা যদি ভালো লাগে তাহলে লাইক এবং শেয়ার করতে আপনার যেন মর্জি হয় । ধন্যবাদ!! ভালো থাকবেন ।